মহানগরীর বুকে একমাত্র মহিলা বাস ড্রাইভার

মডার্ন যুগে স্কুটি বা চারচাকা চালিয়ে স্মার্টনেশ দেখাতে মহিলারা বেশ পটু। টাকার অহংকারে পা পড়ে না মাটিতে। স্কুটি বা চারচাকা চালিয়ে আভিজাত্য বজায় রাখতে চায়। তাঁদের মধ্যে হয়তো পড়েন না প্রতিমা দেবী। কারণ তিনি বাস চালান। তথাকথিত সভ্য ভদ্র সমাজের অহংকারী স্টাইলিশ মানুষদের থেকে তাঁর জীবনযাত্রা আলাদা। বলা যেতে পারে একুশ শতকের নারীর ক্ষমতায়ন।

হাওড়া-নিমতা রুটের বাস ড্রাইভার প্রতিমা পোদ্দার। তেইশের কোঠায় বয়স যখন বিয়ে হয় নিমতার বাসচালক শিবেশ্বর পোদ্দারের সঙ্গে। শাশুড়ি, ননদ ও দুই মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার। তখন থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ভর করে প্রতিমা দেবীর ওপর। সংসারে সুখ ফেরাতে স্বামীর সাহায্যে গাড়ি চালানো শিখতে শুরু করেন তিনি।

পাড়ার লোকের নিন্দাকে উপেক্ষা করেই তিনি শিবেশ্বর বাবুর শিষ্যা হয়ে ওঠেন। কেউ পাশে না থাকলেও শাশুড়ি ও ননদের সমর্থন পেয়ে প্রথম সল্টলেকের একটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালাতে শুরু করেন। তখন থেকে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শুরু। পরে হাওড়া-নিমতা রুটে স্বামীর বাসেই কনডাক্টরের কাজ করতেন প্রতিমা দেবী। কিন্তু হঠাৎই ঘন অন্ধকারে ঢেকে দিল সুখের সংসার।

স্বামীর বড় অ্যাকসিডেন্টের পর সংসারের হাল, অসুস্থ স্বামী ও শাশুড়ির ওষুধের খরচ সঙ্গে দুই মেয়ের পড়াশুনা। মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ল। তখনই স্বামীর বাসের স্টিয়ারং ধরলেন প্রতিমা। শুরু হল বাস ড্রাইভার হিসেবে নতুন জীবন। বড় মেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কে অনার্স ও ছোট মেয়ে নবম শ্রেনীর ছাত্রী, একজন সাঁতার ও একজন জিমন্যাস্টে ন্যাশানাল খেলেছেন। যদিও প্রতিম দেবী নিজেও জিমন্যাস্ট ছিলেন। কিন্তু সবই এখন স্বপ্ন।

নিজের মেয়েদের নিজের মতোই সৎপথে রোজগার করে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দেন। নিজের থেকে বাসের যাত্রীদের জীবনের গুরুত্ব বেশি বলেই মনে করেন তিনি। অনেকে মহিলা ড্রাইভারে দেখে বাসে ওঠেন না-আক্ষেপ করে বললেন প্রতিমা দেবী। তাতে কান না দিয়ে হাওড়া-নিমতা ও নিমতা-হাওড়া রুটে বাস চালিয়েই যাচ্ছেন তাইতো তিনি মহানগরীর বুকে একমাত্র প্রতিমা দেবী।

One thought on “মহানগরীর বুকে একমাত্র মহিলা বাস ড্রাইভার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Inline
Inline