নিঃশব্দে চলে গেলেন নেতাজীর সহকারী সরস্বতী

ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম। এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বহু মানুষই ভারতকে উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তেমনি একজন ছিলেন রাজামানি বা সরস্বতী। সরস্বতী পূজোর আগেই নেতাজী স্নেহধন্যা এই কম বয়সী গুপ্তচরকে হারাল ভারতবাসী।

Source

১৯২৭ সালে মায়ানমারের রেঙ্গুনে জন্মগ্রহন করেন রাজামানি। মাত্র ষোলো বছর বয়সে নেতাজী বানীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজে যোগ দিতে চান তিনি। নিজের সমস্ত অলংকার নেতাজীর বাহিনীতে দিয়ে স্বাধীনতার কাজে ব্রতী হন। ঝাঁসিরানী লক্ষীবাঈ-য়ের ব্রিগেডে অংশগ্রহন করেন। তখনই নেতাজী তাঁর নাম দেন রাজামানি সরস্বতী।

নেতাজীর বামদিকে সরস্বতী – Source

বিং শতকের মধ্যভাগে স্বাধীনতা সংগ্রামের জোয়ার উঠেছিল সেই সময় স্বয়ং মহত্মা গান্ধী রাজামানির বাড়িতে এসে দশ বছরের মেয়েকে বন্দুক চালাতে দেখে অবাক হয়ে যান। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর ঘৃনা ও দেশাত্মবোধ বাকরুদ্ধ করেছিল বাপুজিকে।

Source

মাত্র ষোলো বছর বয়সেই তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজে গুপ্তচরের কাজ শুরু করেন। বুদ্ধি ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ইংরেজ শাসকদের বাড়িতে ছেলে সেজে কাজ করা সুযোগ নিয়ে সরস্বতী ও তাঁর মহিলা সৈনিকরা ইংরেজ শাসকদের ভারতের বিরুদ্ধে পরিকল্পনার ছক গোপনে জোগাড় করে এনে দিতেন নেতাজী বাহিনীকে। তাঁর কাজে যথেষ্ট মুগ্ধ ছিলেন নেতাজী।

Source

গুলির আঘত সহ্য করেও সঙ্গীকে না ছেড়ে তিনদিন সেই গুলি শরীরে গিঁথেই সঙ্গীকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এমন সাহসিক নারীকে এক জন দক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামী ছাড়াআর কি বলা যেতে পারে।
দেশের মানুষকে ইংরেজদের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে আমরন লড়াইয়ের পরও পাননি যথাযোগ্য সম্মান। আজও হয়তো অনেক মানুষ এই নাম শোনেননি। নেতাজীর শহরে সম্মান পেলেও স্বাধীন ভারতের অনেক মানুষ তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের চোখেই দেখেছেন। দেশের প্রতি আগাধ ভালোবাসা এই তাচ্ছিল্যকে জয় করতে সাহায্য করেছে।

Source

রাজামানি সরস্বতী এমনই একজন যাঁর কঠিন বিশ্বাসে জায়গা পেয়েছে নেতাজী আজও জীবিত। নেতাজীর ছবিকে পাথেয় করেই কাটিয়েছেন এতগুলো বছর। মৃত্যুর পরেও স্বাধীনতা সংগ্রামী লড়াকু সরস্বতীর খবর প্রকাশ্যে আসেনি। অথচ স্বাধীন ভারতের সত্তর বছর বয়সে সংগ্রামীদের তালিকায় সবথেকে কমবয়সী লড়াকু মহিলা ছিলেন তিনিই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Inline
Inline